ঝিনুকের পেটে মুক্ত - সুতপা ব‍্যানার্জী(রায়)

story and article

সমুদ্রের ধারে সার সার ঝিনুকের দোকান। কোনটায়
আলোর বাতি,কোনটায় আয়না বা কোথাও ঝিনুক দিয়ে তৈরী ঘর সাজানোর জিনিস। সদ‍্য কিশোরী ঝিনুক বাবা-মায়ের সঙ্গে দীঘায় বেড়াতে এসেছে।ঘুরে ঘুরে দেখছে সব। হঠাৎ ওর চোখ আটকে যায় ঝিনুক দিয়ে বানানো একটা ময়ূরে। বাবার কাছে বায়না করল-“বাবা আমি ঐ ময়ূরটা নেব।”

ওর মা বারণ করল-“আরে ওটা বাড়ি নিয়ে যেতে যেতে ভেঙে যাবে।”
“ভেঙে গেলে যাবে, মেয়ে যদি ঐ সামান‍্য জিনিসে খুশী থাকে তো নিক।”
ওর বাবা দোকানীর দিকে এগিয়ে যায়-“কত দাম ভাই তোমার ঐ ময়ূরের,একটা দাও তো।”
“বউনির সময় নিন না,যা মনে হয় দিন।”

“তা বললে হয়,তুমি তোমার লোকসান করে দেবে নাকি।”
“ছোট দিদিমণি চেয়েছে,এই সামান‍্যতে আমার লোকসান হবে কেন?”
ঝিনুক পেছন থেকে-“তুমি এই ঝিনুক বুঝি ঐ সমুদ্র থেকে পাও,কোনদিন মুক্ত পেয়েছো ওদের পেটে?
জানো আমিও ঝিনুক।”
এরপর ঝিনুক বাকীদের সঙ্গে সমুদ্রে হুটোপুটি করতে গেল। বাবা-মা সাগরবেলায় দাঁড়িয়ে।একটার পর একটা বড় ঢেউ ভাঙছে ঝিনুক,পাশে আরো অনেকে।

ও কি! ঝিনুককে তো আর দেখা যাচ্ছে না।
“ঝিনুক…ঝিনুক..”-বাবা-মায়ের ডাকের সঙ্গে সঙ্গে
ঐ ঝিনুকওয়ালা ঝাঁপ দিল সমুদ্রে। ঐ তো কোলপাঁজা করে ঝিনুককে উঠিয়ে নিয়ে আসছে।

এতক্ষণ ঢেউয়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে ক্লান্ত অবসন্ন। ধীরে ধীরে ঝিনুকের জ্ঞান ফেরে,তাকিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে
ঝিনুককাকুকেও দেখতে পায়। ও ফুঁপিয়ে বলল-“এই সমুদ্রের আসল মুক্ত তো তুমি কাকু,আর কেউ না।”

storyandarticle.com